কাছে এসো।

কাছে এসো, আরো কাছে। বুকের পাশে।  জড়িয়ে ধরো,  জোরে, আরো জোরে। পেঁচিয়ে যাক শরীর শিমগাছ যেভাবে পেঁচিয়ে থাকে মাচার উপরে।   হাতে হাতে গুঁজে ঠোঁটে ঠোঁট ভিজিয়ে চুম দাও। এক শ্বাসে পৌঁছে যাও যৌবনা সমুদ্রে। আমি ধীর পাহাড়ের মতো খুলে দিবো সবুজ সময়। ভুলে যাবো বাকি সব, প্রেম ছাড়া যতো উৎসব, জয়-পরাজয়।   খুল, দুয়ার [বিস্তারিত কাছে এসো।]

আবু ও হাবুর কথা

আবু আলী হাবু আলী – রোজ করে চুলোচুলি খসলেই তাল থেকে তিল, যেকেহ তুললে চড় – অন্যে ভুলে হাশর খুব তবু দু’জনার মিল। হাবু কভু খেলে পান – আবু পাশে গায় গান সজোরে চিবিয়ে ডাল ভাজা, কোথাও জিতলে আবু – ভাবে ধাপ ফেলে হাবু যেন সে মঞ্চে জাগা রাজা। আবু যদি কিনে হাঁস – হাবু [বিস্তারিত আবু ও হাবুর কথা]

স্বাধীন পতাকা

স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে তার রক্ষা করা খুবি কঠিন হচ্ছে! সেই কঠিন সময়- কিন্তু যাচ্ছে; দেহের অভিনয় ভাজে- ভাজে- রক্তাক্ত হবার আগে অনেক থাকে ভয় লাল গোলাপ হাতের চেয়ে ভুল কিছু নয় তাই ভালবাসা রেখো না বন্ধি খাঁচাই তার চেয়ে জীবন্ত লাশ থাকায় ভাল তবু খর্ব করো না- স্বাধীনতার ফসল উদ্বেগ মন জুড়ে পত পত [বিস্তারিত স্বাধীন পতাকা]

নিঃসঙ্গ জীবন (সনেট)

নিস্তব্ধ গভীর রাতে বিরহীর বাসে অবাক দৃষ্টিতে জাগা আধ খাওয়া চাঁদ, কবেই নেমেছে বন্যা মালিকের আশে চৌচির জমিতে খাড়া তবু এক ফাঁদ। প্রখর দুপুরে বসে গাছ তলে একা লিলুয়া বাতাসে ভাবা পথিকের মন, শীর্ণ তর্জনীতে এঁকে নীলিমায় রেখা অবাধ্য দু’পায়ে চলা পথিকের ক্ষণ। চৈত্রের জলধি যদি নাও যাচে জল কালচক্র এনে দিবে জোয়ারের তাড়া, বেভুলা [বিস্তারিত নিঃসঙ্গ জীবন (সনেট)]

সাংসারিক আলাপন।

রক্ত পুড়িয়ে রান্না করতে শেখো, তেলের চেয়ে রক্তের দাম কম আপাতত। হা হা হা! হাসছো কেনো? ভাবছো রক্ত পুড়ালে দম উড়ে যাবে? যাক না তবে! তাতে কার কি যায় আসে, বাঁচতে তো হবে। গিন্নি, তুমি কি নিশ্চত করে বলতে পারবে! রাস্তায় বেরোলে ঠিকঠাক ঘরে ফিরতে পারবো প্রাণ নামক বস্তুটি পকেটে পুরে, গিন্নি, চোখ নামিয়ে ফেলে, [বিস্তারিত সাংসারিক আলাপন।]

পরম প্রাপ্তি

রাত জেগে রোজ মশক মেরেছি পরহিতে দিনে মাছি, এরই মাঝে এলে পতঙ্গ কভু সজোরে ফেলেছি হাঁচি। দেখে তা আড়ালে অনেকে জ্বলেছে ব্যঙ্গ কথার ক্ষেতে, একজন শুধু দূর থেকে চেয়ে আশায় উঠেছে মেতে। কতদিন হলো দেখিনি যে তারে হাসে না বলে স্বদেশী! খোঁজ নিতে শুনি আজ সে মারছে মশা-মাছি বেশী বেশী। ছবিঃ সোনেলা গ্যালারী থেকে।

শেষ দেখার ডায়রি

আচ্ছা তোর সাথে আমার শেষ দেখা, সেই শেষ বিকেলের কথা মনে পড়ে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল তোকে মনে হচ্ছিল শরতের কাশফুল ছুঁয়ে আছে তোকে। তোর খোলা চুলে বেলী ফুলের সুবাস আজো অনুভবের বাঁশরী বাজায়, কপোল ছুঁয়ে যাওয়া কালো কেশ ইচ্ছে করছিলো ছুঁয়ে দিতে, পাছে গোধূলির আবির মাখা রাঙা ওই সলাজ মুখে শ্রাবনের মেঘ এসে বৃষ্টি ঝরে। [বিস্তারিত শেষ দেখার ডায়রি]

স্বপ্ন

বৈচিত্র ময় রাতে কবিতার ক্রন্দন নেই আর্তনাদ শুধু মেঘের দোসর জল বয়; দেখো- চোখের ভিতর বালুচর- আর থৈ-থৈ জল ঢেউ খেলা বুকের কিরা নায়; ডুবে যাচ্ছে- যাচ্ছে সব প্রণয়ের ভাবনা- তবু সান্ত্বনা হও কবিতা! এই ফাল্গুন কিংবা চৈত্রের পোড়া অনল কোন কবির মনে! অতঃপর উন্মোচন হলো কবিতার যত সব স্বপ্ন। ১৩ ফাল্গুন ১৪২৮ ২৬ ফেব্রুয়ারি [বিস্তারিত স্বপ্ন]

স্বরূপের প্রতি ভালোবাসা (সনেট)

স্বরূপ বন্ধুরে আমি এতো ভালোবাসি কক্খনো নয় তা জলে জলধির তুল, যদি ভাবো অবারিত ফসলের হাসি জেনো তা কিঞ্চিত নয় পূরো হবে ভুল। বলছি না আন্দাজে তা এমনই জবান বিস্তর বিশ্বাসে জাগা নীলিমার মতো, কিংবা আস্থায় আছে সামান্য লোবান দানিছে পুষ্পিত বাগ হেসে রোজ যতো। অটুট বন্ধনে জাগে প্রকৃতির সারি জানি সেথা ঋতু করে পালাক্রম [বিস্তারিত স্বরূপের প্রতি ভালোবাসা (সনেট)]

অষ্টআশ্চর্য

ঐ কন্যা শোন;যাবে কি আমার সাথে? পুষ্প ফোটা,সবুজ ঘেরা ঐ দিগন্তের পথে!   আমি কেন যাব তোমার সাথে? তুমিতো হলে সেই ভবঘুরে, সকালে এখানে তো বিকালে ওখানে।   চলাফেরা যার নিজেরই ঠিক নাই, কেমন করে তার সাথে পথ চলার ভরসা আমি পাই!   নিজে ভবঘুরে তাতে কি? তোমায় রাখবো অতি যত্নে, হ্রদয়ের মনিকোটাই থাকবে তুমি [বিস্তারিত অষ্টআশ্চর্য]

একবার দেখা হওয়াটা জরুরী।

আমাদের একবার দেখা হওয়া উচিৎ। খুব বেশী আড়ম্বরতা নয়। স্রেফ সাধারণ। যেভাবে দেখা হয়ে যায় মাঝেসাঝে জেব্রা ক্রসিং- এ দাঁড়িয়ে থেকে শৈশবের হ্যালুসিনেশন।।   এককাপ চা খাওয়া যেতে পারে, বয়সের ভারে কথাগুলো জড়িয়ে গেলেও ক্ষতি নেই। দেহের বয়স বাড়ে, চোখের!? চোখ না হয় বুঝে নিবে কথার শরীর অল্পতেই।।   একবার দেখা হওয়াটা জরুরী। একবার বুক [বিস্তারিত একবার দেখা হওয়াটা জরুরী।]

তোমাকে ভুলতে চাওয়াটাই বিরক্তিকর।

তোমাকে ভুলার জন্য বেঁচে নিলাম কবিতা। আমার মাথার শিওরে বসে থাকে – আব্বাস কিয়ারোস্তামি, ইমরা উল কায়েস, জাক প্রেভে, শক্তি চট্টোপাধ্যায় সহ আরো অনেকে। সারারাত জেগে উনাদের সাথে আলাপ করি, রাত গাঢ় হলে,পাশের বনে শেয়ালের কোলাহল উঠে। বুকের ভেতর বিঁধে যায় মিশরের নীরবতা – জানালা খুলে দেখি দূরে কে যেন সাওয়ার হয়েছে উটের পিঠে, জোৎস্না [বিস্তারিত তোমাকে ভুলতে চাওয়াটাই বিরক্তিকর।]

ফিরিয়ে দেবে আমায়

তুমি বলেছিলে কী চাই বলেছিলাম, একটু ভালোবাসা, তুমি বললে, আর কী চাই বললাম, একটু আগলে রাখা, তুমি বললে, আর কী চাই পাশাপাশি বসে গল্প করা, তুমি বললে, আর কী চাই মধ্য দুপুরে একসাথে হাঁটা, তুমি বললে, আর কী চাই পূর্ণিমায় ছাদে বসে তোমার প্রিয় কবিতা শোনা, তুমি বললে, আর কী চাই হেমন্তের সন্ধ্যায় নতুন ধানের [বিস্তারিত ফিরিয়ে দেবে আমায়]

ভাষা মানে মা

ভাষা মানে মা! মায়ের মুখে বাবা ডাক শুনার আকুতি; তার জন্যে যত রক্ত গেলো রফিক,সফিক, সালাম বরকত জব্বার আরও কত নাম না জানা শহীদ; তাঁদের বুকে দাগ লেগে আছে বাংলা বলার রক্ত মাখা মা জনম জনম ধবে কি ঋণি করে গেলে বলো কি করে সোধ দিবো তাঁর অম্লান যেনো বাংলা ভাষার প্রাণ! একুশ এলেই যে গন্ধ পাই মা [বিস্তারিত ভাষা মানে মা]

ওরা এসেছিলো।

গত রাতে ওরা এসেছিলো… দরজায় ঠক,ঠক শব্দ। কে? আমরা। আমরা কে? কোন উত্তর নেই।   আমি বিচলিত হই… ….. লাফিয়ে উঠি বিছানা ছেড়ে। টেবিলে রাখা জগ থেকে পানি ঢেলে ঢকঢক করে গিলি এক-শ্বাসে। চশমাটা চোখে দিয়ে, এক পায়ে জুতো আরেক পা খালি.. .. .. আমি দরজার পাশে যাই। দরজার ও পাশে দাঁড়ানো বাংলার বর্ণমালা- রফিক, [বিস্তারিত ওরা এসেছিলো।]