রাগের তরে টাকলা দাদু!

টাকলা দাদু যাবেই রেগে করছে মনে পণ, সকাল থেকে ঘুরছে সে তাই রৌদ্রতে বনবন। ভাবে মাথা গরম হলেই আসবে ছুটে রাগ, চলবো আমি দর্পে তখন যেমন ফুঁসে নাগ। ভর দুপুরে বললো দাদী সোহাগ ঝরা স্বরে, রাগ তো করা অনেক হলো এবার চলো ঘরে! চোখ করে লাল শুধায় দাদু ‘সস্তা এ পণ অতি?’ ফিরবো না যাও [বিস্তারিত রাগের তরে টাকলা দাদু!]

কবিতা ও আমি

  কবিতারা খুব সংকীর্ণ মনা হয় মনের ইচ্ছা, অনুভুতি বুঝে না উঠে যতোটা গভীর থেকে, সংগোপনে সর্বস্ব নিয়ে যায় লুটে  । বুকে যতো লালন করি, ধারণ করি ভাষায়,  সারমর্মে , উঠে না তা ফুটে তবুও কবিতাই ছুঁয়ে যায় কেবল আমার যতো প্রেম,  তোমর হৃদয় তটে । স্বপ্নকে যতোটা আমি দেখি কবিতায় আর কতোটুকু লেখি চিন্তায় [বিস্তারিত কবিতা ও আমি]

আজ কোথাও যাবো না।

আজ কোথাও যাবো না ভেবে এলিয়ে দিয়েছি শরীর উন্মুক্ত ফ্লোরে। বিছানা, টেবিলে নির্বিকার পড়ে আছে কবিতার বইগুলো। মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে সাঁ সাঁ শব্দ করে। খানিক বাদে বাদে তুমি এসে পড়ো – মন ও মগজে।   অসাড় দেহটা পড়ে আছে অথচ সে ক্লান্ত নয়, মন ভীষণ ভাবে ক্লান্ত। শতদল মৌমাছি উড়ে যায় হলুদ সর্ষে ক্ষেতে [বিস্তারিত আজ কোথাও যাবো না।]

এই শহরে

  এই শহরে চাঁদের আলো জীর্ণ দেখায় এই শহরে নিয়ন আলো পথ চলায় । এই শহরে বাতাস এলেই ধুলি উড়ে এই শহরে বৃষ্টি এলে দূর্ভোগ বাড়ে । এই শহরের কলকব্জায় ধোঁয়া উড়ে এই শহরের বুকের মাঝে আবেগ পুড়ে । এই শহরে ইট পাথরে সবই গড়া এই শহরে মানবতার দেহ মরা । এই শহরে চোখের মাঝে [বিস্তারিত এই শহরে]

স্নেহ আদর

একটা রাতের আধারে দেখি সব- এই ধর যেমন চোখের শ্মশানে সোনালি ক্ষণ- জোনাকির বাসর; কেমন জানি জোনাকিকে হারায় মন, বিরহ মধু- মৌচাক শূন্য ঘরের বাসন কোসন! তবু সংসার আঘাতে কোথায় জানি আলোকময়! চাঁদ কেও হারমানায়- অথচ কে দেখে মাটির চারপাশ স্নেহ আদর! অগোছালো পাতার বহর আর ঘাসফড়িঙ হাসি সবই জানি অম্লান করেছে রক্ত ফুলদানি। ০৬ [বিস্তারিত স্নেহ আদর]

রোহিণীর কথা

দেহ ধরে তার দাঁড়াবে বলেই অন্তরে পুষে আশা, ছায়াতলে এক রোহিণী জন্মে সাজলো নীরবে চাষা। মুগ্ধ নয়নে রোজ ভাবে চেয়ে কতো এ গাছের ডাল, ফেলবে কি মোরে তুচ্ছ ভেবে সে ডাক দিলে ক্ষণকাল! যবে শিরে তার চারটি পত্র সাড়া দিলো পাশাপাশি, সেদিন থেকেই মৃদুলার দ্বারে ছড়ায়ে চলেছে হাসি। এসেছে যদি বা পতঙ্গ কভু স্বপ্ন হরার [বিস্তারিত রোহিণীর কথা]

বেলা অবেলার গল্প

  পিছু ফেরের টান নেই পুরনো সেই গান নেই ছুটে চলা অবিরাম ক্লান্তির গোধুলীর আবেশে বেলা হীন দিগন্তের শেষে সময়ের নেই আর দাম । বুকের গহীনে ফুটে ফুল প্রজাপতির আলপনা ডানায় দোল সদাই স্বপ্ন জাগায় মনে বেলা অবেলার হাজারো গল্পে বসন্ত ফুরায় অল্পে অল্পে কাল বৈশাখীর আহ্ববানে  । স্মৃতি হয়ে বুকে থাকে জীবনের এই প্রতি [বিস্তারিত বেলা অবেলার গল্প]

জন্ম দাগ

অনাবশ্যক সংযতচিত্তে গুটি বসন্তের মতো আমি জেগে উঠেবো পৃথিবীর নির্জন তম গ্রামের মোড়লের মুখে। আমার জন্ম দাগ মুছতে স্নো, পাউডার মাখতে থাকবে মোড়ালের বিগত তিন প্রজন্মের আউশধানের মতো নরম রমনীরা। অনাগত মোড়ালের নাতবউয়ের সাথে প্রণয়ের দ্বায়ে  আমি রাজবন্দী। তাঁকেই আমি হদিস দেবো কার উদরে আছে আমার জন্ম দাগ। পৃথিবীর মোড়লদের  মুখে গুটি বসন্তের দাগ হয়ে [বিস্তারিত জন্ম দাগ]

নিয়তির বিদ্রুপ

  মেঘ জমেছে আকাশ কোণে নদির বুকে বাণ শহর জুড়ে বৈরী হাওয়া বাতাসে বিরহের গান । সবুজ শাখে  দোয়েলের ছায়া শীতল পাটির মায়া শীষ দিয়ে যায় কাকাতুয়া আঁধার রাতের ধোয়া । ফুল বনে আজ গুনগুনাগুন ধুতরা কাটায় বিষ কারো বুকে স্বপ্ন জাগে কারো ঝরে অহর্নিশ । বুক জুড়ে আজ খরার প্রভাব চাতক খোঁজে জল মেঘ [বিস্তারিত নিয়তির বিদ্রুপ]

একবার যেও ঘুরে!

একবার এসে ঘুরে যেও তুমি ছোট যমুনার তীরে, যেথা আছি গড়ে নতুন বসতি হরেক লোকের ভিড়ে। নদীর কিনারে টিন ইটে জাগা জীর্ণ আমার দ্বার, বৃক্ষের শাখা দুলে তবু রাখে দিবা-নিশি আবদার। মমতার টানে পাখালির ঝাঁক কলতানে থাকে মেতে, রোজ এসে দেয় নীরদের ভেলা হিমেল আঁচল পেতে। জেলে ধরে মাছ বড়শি বা জালে উচ্ছ্বাসে বেয়ে তরী, [বিস্তারিত একবার যেও ঘুরে!]

সম্পর্কের ভিত (সনেট)

চন্দন কাষ্ঠের তৈরী কেদারায় দুলে বর্ণিল স্বপনে তুমি চাঁদে গড়ো কুঠি, সখ্যেও মৃদুলা ঝড় কভু এসে ছুঁলে রক্ষার্থে কুঁড়ের মান আমি ধরি খুঁটি। ছন্দিত আবেশ পেতে কামনার দোরে রূপালী ঘুঙ্গুরে তুমি যেচে ঢালো সুরা, বাঞ্ছার কর্কশ ঘাতে অদিনের ঘোরে ন্যাড়া পাতে আমি খুঁজি খইলশ্যার মুড়া। যতোই নামুক বৃষ্টি নিয়ে মিঠা পানি জানি সমূদ্রের জল তবু [বিস্তারিত সম্পর্কের ভিত (সনেট)]

ব্যাসার্ধ

এইখানে নাভিশ্বাসের শরীর জুড়ে গম ছিটালে জননীর বোধের বেলনের নিচে, বাবার মুখের ব্যাসার্ধ নিয়ে  আমি রুটি ফুল হয়ে ফুটে থাকি পৃথিবীর শেষ ক্ষুধার্ত দাঁতের অপেক্ষায়  । নীলাদ্রি বুকের উঞ্চতায় রুটি ছেঁকে দিলে, আমি হয়ে উঠি বিনিময়ের কড়ি। আমাকে খুচরো করে পকেটে তুলে নেয় টুকটুকে লাল বিপ্লব। আমার পঞ্চম উত্তর পুরুষ ভিনদেশীর ভ্রমন বৃত্তান্তে খোঁজে বনবিবির [বিস্তারিত ব্যাসার্ধ]

কবি ও কেরানি।

  হাঁটি, হাঁটতে কোন ক্লান্তি আসেনা। কবি থেকে কেরানি বা কেরানি থেকে কবি হতে গেলে ডোরা সাপের মতো শুধু চামড়া পাল্টে নিতে হয়। সারাদিন কাগজে খসখস শব্দে হিসেব কষি – নিজের, অফিসের, পৃথিবীর।   এই সময়টায় কোন প্রজাপতি ফুল ভালোবেসে এ তল্লাটে আসেনা। এ সময়টায় পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে ফিরে ক্ষুধার্ত হায়েনা। কোন নরম খরগোশের আকাঙ্খায় [বিস্তারিত কবি ও কেরানি।]

রক্ত চাপ

কবিতার চোখে ঘুম দেখছি না কেনো ঘুম পাচ্ছে না- বলাই বাহুল্য; এই ভাবনার অথৈ গড়াচ্ছে জল রক্ত কোষ হাবুডুবু খাচ্ছে! মৃদু কম্পন কারণ ছাড়াই- কবিতা খুব অভিমানের চন্দ্র কাঠ -কখন জ্বলে উঠে- বুঝাই যাচ্ছে না অথচ নিয়ন্ত্রণে উচ্চ রক্তচাপ কথায় শুনছে না- তবু কবিতা পাড়ায় আতঙ্ক নয়; এক বিশ্বাস একদিন ঘুম আসবে, রক্তচাপ কমে যাবে, [বিস্তারিত রক্ত চাপ]

একা কালো কাক।

এক ঝাঁক শালিকের ভীড়ে জেগে থাকা একলা কাক…!  শালিক পুষে মানুষ ..আদরে,  প্রেমিকাকে শালিকের উত্তরসূরী বানায় প্রেমিক, যদিও শালিক উড়তে জানে, উড়ে যায় দূরে। কাক তবুও থাকে, রাস্তাঘাটে..  অলিতে-গলিতে, শশ্মাণ কিংবা কবরে।   এক ঝাঁক শালিকের ভীড়ে একা কালো কাক..!  উড়ে যায়, যাক উড়ে যাক।   প্রাচীর ভাঙা উর্ধ্বশ্বাসে ডানা ঝাপটিয়ে বেঁচে আছে, বেঁচে থাক। [বিস্তারিত একা কালো কাক।]