শীত আসে শীতে

  এখন এখানে (তখন-ও) চাওয়ার কিছু ছিল না, দিকচক্রবালে-ও না, পাওয়া পাওয়া গুলো উত্তাল উত্তাপ পায়নি এখন-ও তখন-ও; তবুও হৃদয় থাকে, হৃদয় আছে বলেই, সকালে সকাল আসে, সন্ধ্যায়-ও সকাল আসে, আসে দেরি করেও; নিরন্তর এই আসা আসা, যাওয়া যাওয়া, আসা-যাওয়ার ছলে, ছল করে; তবুও আমরা আসি, যাই-ও, নূতন নূতন করে আসি, যাই, আসি-ও না, যাই-ও [বিস্তারিত শীত আসে শীতে]

আমাকে গ্রহণ করো।

এবার শেষবারের মতো তোমার শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। অনেক দূর। যাচ্ছি কোন এক মৌন পাহাড়ের দেশে। যেখানে নিজের মতো করে নিজেকে তৈরি করতে পারা যায়। কাউকে পেয়ে নয়। বরং তোমার ভীষণ অবহেলা আর অভিজাততন্ত্রের অহংকারে, চলে যাচ্ছি বহুদূর। জানি, এ নিয়ে তোমার কোন মাথাব্যথা নেই। নেই কোন হারাবার ভয়। আমি নামক মানুষটা ছাড়া তুমি কখনো [বিস্তারিত আমাকে গ্রহণ করো।]

দুঃখী  বাংলার দুঃখীনি  মেয়েরা 

জন্মেছি মেয়ে হয়ে ,বড়ো হয়েছি চারপাশে মেয়েদের কষ্ট দেখে, তারপরে প্রবাস জীবন শুরু হল, জীবনের মোড় ঘুরলো বিয়ের পর । প্রবাসে বসবাসকারি বন্ধু দের মধ্যে কষ্ট দেখলাম । প্রবঞ্চনা দেখলাম , আশা ভঙ্গ কঠিন জীবন দেখলাম। নানা রকম পড়াশুনা আর গবেষণার পর যে পেশায় কাজ পেলাম তাও মেয়েদের বিষয় নিয়ে । জীবনের খাতায় জমা হতে [বিস্তারিত দুঃখী  বাংলার দুঃখীনি  মেয়েরা ]

দেয়ালের-ও দেয়াল থাকে

  দেয়ালের এপাশ থেকে ওপাশ! সামান্য একটি দেয়াল মাত্র; চাইলেই টপকানো যায়, ফুঁ দিয়েও গুড়িয়ে দেয়া যায়, গনগনে আগুন! তাও জ্বেলে দেয়া যায়, পেরেক ঠুকে ঠুকে নড়নড়ে করা যায়; তারপর ও দেয়ালেই ঝুলে থাকে দেয়াল বিটকেল-দাঁতে, অভাব্য অসভ্যতায়; অবশ্য ছত্রিশ/বত্রিশ চড়ে একটা/কয়েকটা দাঁত ফেলে দেয়াই যায়; কিন্তু কিন্তু, দাঁত ফেলে বা উপড়ে দিলে/নিলে ভ্যা ভ্যা [বিস্তারিত দেয়ালের-ও দেয়াল থাকে]

খরা কাব্য

ছোট খাটো অক্ষর কুড়িয়ে-টুকিয়ে নিয়ে খোড়া,ল্যাংড়া শব্দ সাজাতে বসি…..ভগ্নাংশের ছিটেফোঁটা  অক্ষরের দৈন্যতা ভোগাতে থাকে অবিরতঃ।  পঞ্চদশ পৃষ্ঠায় এসেই থমকে গ্যাছে আঙুলের যাবতীয় সাড়তা। অসাড়, নির্লিপ্ত চোখের দৃষ্টিতে শুধুই মৃত মাছের জমাট বাঁধা রক্তের ছোপ! পূর্বাপর হাজারো অক্ষরের জমিনে চাপ চাপ ভুল বানান ; দাঁড়ি,কমা,সেমিকোলন,বিরাম চিহ্ন! কেবলই হামাগুড়ি দেয়া শিশুর চার হাত পায়ের ছাপ-ছায়া, ছাড় পায়না [বিস্তারিত খরা কাব্য]

স্বগতোক্তির বীণ

  তাজা কবর দেখে থমকে যেয়ে কাছে ঘেঁসে দাঁড়াই, দেখি, লবণ-চোখ-স্বজনেরা ছুঁড়ে দিচ্ছে মুঠো মুঠো মাটি, কান্না উগড়ে, চেপে রেখেও; অশ্রুহীন আমি! ভাবি————- রোজ ই তো কত কত কত্তজন হারিয়ে যাচ্ছে মৃত্যু-নিয়ম মেনে, অনাথ শিশু আর অকাল বৈধব্যরা ও সংখ্যা বাড়াচ্ছে; ঘাটের মরারা ও বেহদ টিকে যাচ্ছে বেপরোয়া ব্যারাম কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের তুড়ি মেড়ে, বিরহ কাতরতার [বিস্তারিত স্বগতোক্তির বীণ]

চাই একটু আলো

  কালের যাত্রা পথে জীবনের প্রতিটি পাতা প্রতিটি ক্ষণ অপূর্ণতায় ঠাসা, অপুণ্যতে-ও; রূপকের মত অন্ধকার নেমে আসে ক্ষণে ক্ষণে ক্বচিৎ/কদাচিৎ আলোর ঝলকানি-ও, কলহ আর ভালোবাসার স্পর্শ-চিহ্ন কোথাও খুঁজে পাই না, অন্ধকারের শতাব্দীগুলো ভেসে আসে সারি বাঁধা দলবদ্ধতায় অপ্রীতিতের যন্ত্রণা নিয়ে। প্রহর-জাগা শূন্যতার ডাক যখন ত্রিরাত্রির সঙ্গী চুঁইয়ে পড়া নিদ্রাহীনতা চিক চিক করে জেগে থাকে, সবুজ [বিস্তারিত চাই একটু আলো]

মায়া এবং মোহ

সৃষ্টিকর্তা একশো ভাগ মায়ার মধ্যে। মাত্র এক ভাগ মায়াকে ৯৯ ভাগ করে শস্য পরিমাণ মায়া দুনিয়ায় দিয়েছেন। অথচ এই শস্য পরিমাণ মায়া পেয়েই আমরা মানবজাতি কত মায়াবী এবং দয়াশীল। একে অন্যকে ছাড়া থাকতে পারিনা। পছন্দের মানুষকে না পেলে আত্মহত্যা করি। কেউ কেউ সারাটি জীবন কাটিয়ে দেয় নির্দিষ্ট একজনের মায়ায়। দুনিয়ার শস্য পরিমাণ মায়ার মোহে পরে, [বিস্তারিত মায়া এবং মোহ]

পথপানে চেয়ে আছি।

কোথায় হারালে হিরামানিক সোনেলার সোনামনিগণ? কোথায় গেলে খুজে পাব সোনেলায় সোনাভাইগণ? তোমাদের পানে চেয়ে/অপেক্ষায় আছি সোনেলা পাতায় ফুটিবে ফুল, গাইবে পাখি গলা ছাড়িয়া রহ রহ পাশে সাথে। কি এতো অভিমান কি এতো চাওয়া কি বা এতো অরন্যে হন্যে থাকি? খুব কি আশা না নিরাশা এখানে কি বা চাওয়া কি নাই হেতায়? সব পাখি গাই গান [বিস্তারিত পথপানে চেয়ে আছি।]

শুধুই কুয়াশা

  কুয়াশা ভেজা হৃদয়ে ভাবনারা ভেসে আসে অতীত থেকে বর্তমান ছুঁয়ে, ঐ দূর অবধি; ছুঁয়ে যায়, ছুঁতে চায়, না-ছোঁয়া দূরত্বটুকু; তবুও দূরত্ব দূরত্বেই থেকে যায় আড়-চোখে তাকানো বরাবরের মত; এটাই নিয়ম, এটাই হয়ত নিয়তি, থাকা না-থাকার জটিল আবর্তে; পাপ পুণ্যের প্রান্ত সীমায় নেই কোন সুগন্ধ-অতীত, শুধুই অসীম অখণ্ড নীরব- লেখাজোখা, অনিন্দ্য সুখ-পাঠ বিচ্যুতির মত ঠায় [বিস্তারিত শুধুই কুয়াশা]

সঙ্গ

সবুজে সবুজাভা নীলিমায় নীলাম্বরী রুপে অতুলনীয় হৃদয় জুড়ানো আনন। আমি মজি প্রেমালাপে সঙ্গী তুমি আপন মনে কানন আসিল ফুল তুমি রচিলে ভালোবাসার ফুল। ঝুম ঝুম বৃষ্টির ছন্দ তোমার মুখের কথায় আনন্দ শীতে লেপের আসক্ত একই চাদরে ভালোবাসার সঙ্গ। বৃষ্টির দানা গায়ে হানা উতলা মন উতলা তুমি লাজুক হাসি তোমায় ভালোবাসি মন মাতানো উজাড় ঋতি।

যাপিত জীবনে

চলমান জীবনে পথ চলায় কিছুটা  সময় নিয়ে ভেবে দেখবার অবকাশ হয়ে ওঠেনা বললেই চলে। ছোট  বেলা থেকে শুনে এসেছি আমরা, মিতব্যয়ী  হও,ভবিষ্যৎ  সুন্দর গতিতে চলবে। খুব হিসেব- নিকেশ করে চললেও দেখা যায় মিতব্যয়ী  হওয়া সত্বেও  অমিতব্যয়ীর খাতায় নাম। অবশ্য কারো কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে মহামারীর টানা এই  সময়ে সাধারণ  জীবন- যাপনের দৃশ্যপট পাল্টেও গিয়েছে। নিরেট [বিস্তারিত যাপিত জীবনে]

নির্জন দুপুরে

  জানি কোথাও কেউ নেই, ছিলোনা কোনোদিন, আসবে বলেও আশা জাগায়নি মনের গোপন, তবুও রাত্রিজাগা, অপেক্ষায় ভালোলাগা, এ কোন অযথা  দহনে পোড়ে মন! না আছে বিশেষ দিন, ক্ষন, সন, যা আছে তা কেবল যাপিত যাপন কিংবা তথাকথিত জীবন। অবেলায় বরণ করা বারণ লিখেছিল পুরাণ সর্বাঙ্গে চোরাবালির আবরণ, অতলান্তে স্রোতের অথৈ প্লাবন! এ যে কুহক! সর্বনেশে [বিস্তারিত নির্জন দুপুরে]

ভালো হইয়া যাই

এখানে শেষ নয়, এখানে শুরু।করোনার কারনে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাশ নেয়ার উছিলায় এক জন ফাইভ ক্লাশের ছাত্রছাত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন অনলাইন ক্লাশ করতে এনড্রুয়েড ফোন! যেটা দেখা গেছে, জোকের মত লেগে থাকা কিশোররা আসক্ত হয়৷৷সর্বোক্ষণ মাথা নীচু করে রাখে। পাপজি বাপজির মত সব গেম বন্ধ করতে হয় সরকারকে। শিক্ষক সন্তানের দ্বিতীয় অভিভাবক [বিস্তারিত ভালো হইয়া যাই]

হাইকু

হাইকুর সুরে লিখতে গেলাম হাইকু হলো না মোটেও। যা হবার তাই হলো! ১. মন চাই ঝরতে কুহেলিকা মাঝ রাতে কলিজায় ক্ষত। ২. জান যায় যায় বৈশাখী রুষ্ট মধ্যাহ্ন তোমার তরে। ৩. আন্দোলিত মন বাগিচায় পুষ্প মোহিত থালায় বাসমতি। ৪. মাটির ঘর স্বপ্নময় রঙ্গিন যৌবন ফসল দুলছে। ৫. চেয়ে দেখ, চেয়ে ফুল ফসলে মাঠ নড়ে বায়ে [বিস্তারিত হাইকু]